Header Ads Widget

নিপাহ ভাইরাস কী: লক্ষণ, ছড়ানোর কারণ ও সতর্কতা

 নিপাহ ভাইরাস কী, এর লক্ষণ কী, কীভাবে ছড়ায় এবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়—বাংলাদেশের                                                                    প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ তথ্য জানুন।


Breaking News: বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা — সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে দেশের প্রথম নিপাহ ভাইরাস (NiV) সংক্রমণে একজন নারী মারা গেছেন। এ মৃত্যু জানা গেছে রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলায় ঘটে যাওয়া নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের কারণে।

মূল ঘটনা:
আইইডিসিআর (Institute of Epidemiology, Disease Control and Research) ও WHO জানিয়েছে, নওগাঁর ৪০–৫০ বছর বয়সী এক মহিলা ২১ জানুয়ারি শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন। তিনি জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি এবং দুর্বলতা অনুভব করেন। এরপর তার শরীরের অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি হাইপারসালিভেশন (অতিরিক্ত লালা), বিভ্রান্তি এবং খিঁচুনিসহ অন্যান্য লक्षणও প্রদর্শন করেন।

এই অবস্থায় তাকে ২৭ জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরদিন তার অবস্থার অবনতি আরও বাড়ে। ২৮ জানুয়ারি মারা যান। পরবর্তীতে করা ল্যাব পরীক্ষায় নিপাহ ভাইরাস পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট আসে, এবং ভাইরাসই তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়।

রোগীর কোনো বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না, তবে তিনি কাঁচা খেজুরের রস (raw date palm sap) পান করেছিলেন — যাকে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের সাথে যুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

একই সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের নজরদারি এবং পরীক্ষা:
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে বলা হয়েছে, মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা প্রায় ৩৫ জনের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের সবাই নেগেটিভ ফল পেয়েছে এবং এর মধ্যে কোনো নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।

নিপাহ ভাইরাস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
নিপাহ ভাইরাস একটি জোনোটিক ভাইরাস, যার প্রধান বাহক হলো ফল খেকো বাদুড়। এটি মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে ছড়াতে পারে, বিশেষ করে বাদুড় দ্বারা আক্রান্ত খাদ্য বা পানীয় থেকে। ভাইরাসটি শ্বসন ও মস্তিষ্কের প্রদাহসহ গুরুতর লক্ষণ সৃষ্টি করতে পারে এবং এর মৃত্যুহার উচ্চ, ৪০–৭৫% পর্যন্ত reported হয়েছে বিভিন্ন যুগে।

আগের পরিপ্রেক্ষিত:
বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রায় প্রতি বছরই শীতকালে দেখতে পাওয়া যায়। ২০০১ সালের পর থেকে এ ভাইরাসের বহু কেস রিপোর্ট হয়েছে এবং ২০২৫ সালে দেশজুড়ে চারটি প্রাণহানির কেস নিশ্চিত হয়েছিল।

বর্তমান স্বাস্থ্য পরিমাপ:
WHO জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মধ্যে ও আন্তর্জাতিকভাবে ভাইরাসের বিস্তার ঝুঁকি কম ধরা হচ্ছে এবং ভ্রমণ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এখনও প্রস্তাব করা হয়নি। তবে দেশজুড়ে স্বাস্থ্য নজরদারি ও প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

সতর্কতা ও পরামর্শ:
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও WHO পরামর্শ দিয়েছেন —

  • কাঁচা খেজুরের রস বা সন্দেহজনক খাদ্য এড়িয়ে চলতে

  • অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি যোগাযোগ সীমিত রাখতে

  • স্বাস্থ্যবিধি ও হাত ধোয়ার মতো নিরাপদ অভ্যাস বজায় রাখতে

  • লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে
    যাতে ভয়ের মাত্রা কমিয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।


সারসংক্ষেপ 

বাংলাদেশে ২০২৬ সালে প্রথম নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণে একজন নারীর মৃত্যু হয়েছে। WHO ও আইইডিসিআর নিশ্চিত করেছেন, ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়া শারীরিক উপসর্গের পর তার মৃত্যু হয় ২৮ জানুয়ারি। আক্রান্ত ব্যক্তি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন; ৩৫ জনের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তির পরীক্ষা নেগেটিভ এসেছে। দেশজুড়ে স্বাস্থ্য নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করা হচ্ছে, যদিও আন্তর্জাতিক ঝুঁকি কম বিবেচিত হচ্ছে। 

Post a Comment

0 Comments