Header Ads Widget

চট্টগ্রাম বন্দর ধর্মঘট ও পণ্য জট: রমজানের বাজারে সংকট, অর্থনীতিতে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

 বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর ধর্মঘট ও পণ্য জট দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তি বাতিলের জটিলতার মধ্যে শ্রমিকদের কর্মসূচির কারণে বন্দরে ব্যাপক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে রমজানের বাজার ও শিল্প খাতে

সরকার নির্বাচনের আগে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আন্দোলনকারীরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করলেও পরে সেটি ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে ততদিনে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য আটকে পড়া সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

বর্তমানে বন্দরে ১৮৫টি জাহাজ এবং ২১টি কনটেইনার ডিপোতে প্রায় ৬০ লাখ টন পণ্য আটকে আছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে রমজানের জন্য আমদানি করা খেজুর, ফলমূল, চিনি, তেল, ডাল, গমসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য এবং শিল্পের কাঁচামাল।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কর্মবিরতির আগে জেটিতে প্রায় ৩৭ হাজার আমদানি কনটেইনার জমে ছিল। একই সময়ে ডিপোতে জমে যায় ১২ হাজারের বেশি রপ্তানি কনটেইনার। ব্যবসায়ীরা রমজান সামনে রেখে এসব পণ্য দ্রুত খালাস করার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু টানা কর্মবিরতির কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দর পণ্য জট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে। ফলে রমজানের বাজারে এসব পণ্য সময়মতো পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে, যা বাজারে মূল্য বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটির কারণে পরিবহন ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকরা। বন্দরের পাইপলাইনে আরও অন্তত ২০টি জাহাজ রয়েছে, যা নির্ধারিত সময়ে বন্দরে ভিড়লে সংকট আরও বাড়তে পারে।

বিজিএমইএর সাবেক নেতারা জানিয়েছেন, বন্দরে আটকে থাকা বহু জাহাজে শিল্প কারখানার প্রয়োজনীয় কাঁচামাল রয়েছে। পাশাপাশি ডিপোতে বিপুল পরিমাণ রপ্তানি পণ্য আটকে থাকায় তৈরি পোশাক খাত বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধর্মঘটের সময় বহির্নোঙর এলাকাতেও পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আগে যেখানে দিনে প্রায় ৮৪ হাজার টন পণ্য খালাস হতো, সেখানে কর্মবিরতির দিনে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কর্মবিরতির আগে বন্দরে অপেক্ষমাণ জাহাজ ছিল ৯৭টি, যা বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১৮৫টিতে। এসব জাহাজের অর্ধেকেই রয়েছে রমজানের ভোগ্যপণ্য, যা সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারলে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে।

শিল্প মালিকদের মতে, নির্বাচন ও রমজান একসঙ্গে হওয়ায় আগেভাগেই পণ্য আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ কর্মবিরতি সেই প্রস্তুতিকে ব্যাহত করেছে এবং নতুন করে পণ্য খালাসে সময় লাগবে।

ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, গত সাত দিনে চট্টগ্রাম বন্দর ধর্মঘটের কারণে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। শুধু পোশাক খাতেই প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার পণ্য আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রয়োজন হলে এসব পণ্য বিমানপথে পাঠাতে হতে পারে, যা ব্যয় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।voreralonews1

শিপিং খাতের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিটি বড় জাহাজ প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আদায়েও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। গত কয়েক দিনে কাস্টমস প্রত্যাশিত রাজস্ব পায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক না হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং রমজানের বাজার সরবরাহে বড় সংকট তৈরি হতে পারে। যদিও ধর্মঘট সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে, তবে বন্দরের জট দ্রুত নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Post a Comment

0 Comments