Header Ads Widget

গুম ও হত্যা মামলা: জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য শেষ, জেরা ১৮ ফেব্রুয়ারি | আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

 বাংলাদেশের বহুল আলোচিত গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে বিচার প্রক্রিয়া। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত বলে অভিযোগ থাকা শতাধিক গুম-খুনের মামলায় সাবেক র্যাব কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয়েছে। এই মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া তার সাক্ষ্য প্রদান সম্পন্ন করেছেন। ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানের জেরা কার্যক্রমের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছে।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের বিস্তারিত

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া তার জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তর তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, র্যাবের বিভিন্ন অভিযানে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু কর্মকর্তা র্যাবে দায়িত্ব পালন শেষে পেশাদার খুনির মতো আচরণ করতেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।

সেনাবাহিনী ও র্যাবের কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় সেনাবাহিনী ও র্যাবের যৌথ কার্যক্রম, অপারেশন পদ্ধতি এবং অভিযানের সময়কার বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আদালতে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম ও শাইখ মাহদী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আসামি জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন মুনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজনীন নাহার।

আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহ

এই মামলায় একমাত্র আসামি হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন সাবেক র্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান। গত ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেয়।

প্রথম অভিযোগ

২০১১ সালের ১১ জুলাই গাজীপুরের পুবাইল এলাকায় সড়কের পাশে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, এই হত্যাকাণ্ড সংঘটনের সময় জিয়াউল আহসান সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় অভিযোগ

২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকায় বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ প্রায় ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগ

এ মামলার আরেক অভিযোগেও প্রায় ৫০ জনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে জিয়াউল আহসানকে। এই অভিযোগগুলো দেশের আলোচিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

বিচার প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা

বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ায় মামলার বিচার কার্যক্রম নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে জেরা কার্যক্রম শুরু হবে। আদালত সূত্র বলছে, এই জেরা মামলার গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্ধারণ করতে পারে।

দেশজুড়ে আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা

বাংলাদেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা প্রমাণ করা অত্যন্ত জটিল। সাক্ষ্য, প্রমাণ ও তদন্তের ওপর নির্ভর করে মামলার ফলাফল নির্ধারিত হবে। এই মামলায় উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক নজরদারি

গুম ও হত্যার অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে অতীতে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ফলে এই মামলার বিচার আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্ব পাচ্ছে।

পরবর্তী শুনানি নিয়ে প্রত্যাশা

আগামী জেরা কার্যক্রমে নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালতের সিদ্ধান্ত ও মামলার অগ্রগতি নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহও বাড়ছে।

Post a Comment

0 Comments